শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

কবিতা >> ভূষণপুরাণ হাল সংস্করণ : হিরণ্ময় হিমাংশু

ভূষণপুরাণ হাল সংস্করণ

হিরণ্ময় হিমাংশু

ভূষণ- শিবতান্ত্রিক এক সিদ্ধযোগী 
ভূষণ- ফল ফলা এক মহামাহান
যার ফলের মহিমায় ভরে যায় আঁটকুড়ো যৌবন বন্ধ্যা জরায়ুতে ফুটে পুষ্পিত জীবন
চতুরদর্শী অমাবশ্যার রাত
                         নিন্দে নিভাব পাড়া
শিবথানে ফল নামার মহালীলায় ব্যতিব্যস্ত ভূষণ সাথে পোহাতুর বেইচ্ছয়া
আজ ফল নামবে
                 শিবথানে
                         মর্ত্যধামে
                                  আঁটকুড়ো ঘরে
                                              পোহাতুর বেইচ্ছয়ার কোল আলো করে
দু’হাত হাটুতে ভর দিয়ে বগামার্কা মত প্রতীক্ষায় থাকে - বংশের প্রদীপ জ্বলে উঠলো বলে পোহাতু তাকায় বেইচ্ছয়ার তলপেটের দিকে অতঃপর অপেক্ষা আর অপেক্ষা দিনের পর দিন দেখতে দেখতে আবারো অমাবশ্যার চতুরদর্শী রাত

সরিষার কামুক ঝাঁঝালো ঘ্রাণের মত উর্বর হয়ে আসা নারী অতৃপ্ত কামদেবের অনুশোচনাগ্নিতে জ্বলে যাওয়া পোহাতু-
ভূষণ তো খুঁজবেই  চতুরদর্শী রাত


আবারও শিবথানে ফল নামার মহালীলায় লালায়িত ভূষণÑ পোহাতুর বেইচ্ছয়া স্বপ্নবিভোর।

কবিতা >> স্বপ্নমাখা জোনাক রাতের উল্লাস : সেলিম রেজা

স্বপ্নমাখা জোনাক রাতের উল্লাস

সেলিম রেজা

কত শত বার হত্যা করতে চেয়েছি বেপরোয়া বয়সটাকে
নিজেকে শুধরে নেবার চরম সিন্ধান্তে নিভু নিভু পিদিম
ভাবনার চুনকামে অন্ধকার অতল থেতলানো মগজ
মুখোশের ভেতর মুখোশ; রঙ বদলানো লুকোচুরি খেলায়
জ্যামিতিক সময় হামাগুড়ি দিয়ে আড়াল হয় মাধবকুণ্ডে;
দশহাত ঘোমটা টানে অপ্সরী মেঘ
স্বপ্নমাখা জোনাক রাতের উল্লাসে আগন্তুক
বিশ্বাসে বিশ্বাস হারিয়ে হেঁটে চলে তামাবিল
মিথ্যের গোলক ধাঁধাঁয় অক্টোপাসের মত
শুষে নেয় রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন
চোখের পাতায় বিন্দু বিন্দু জল
ভীষণ যন্ত্রণায় ঠিকানাবিহীন দেউরিঘর;
কোমরে স্বপ্নদোষের তাবিজ, শূন্য হাতে মৃত নদীর পার-
একটি পালক নিয়ে সুতোকাটা রাতের পরী 
ওড়ে শুধু ওড়ে রূপবতী হয়ে
প্রাণোৎসর্গ করে যায় যৌথশ্রমে গড়া
স্বপ্নীল বসত ভিটায়।
কুয়েত সিটি, কুয়েত

কবিতা >> তৃতীয় মাত্রা : আহমদ আফরোজ

তৃতীয় মাত্রা

আহমদ আফরোজ

জলের প্রযত্নে লিখে রাখি ধূসর দুরন্তপনা
অবলা বৈঠা মুঠোভরা রোদসমেত নিয়ে যা আমায় 
সকরুণ আর্তির কাছে।
খোলসের গান নয় ধাবমান শাঁসের আকুতি
পরাণের হৈ চৈ খৈ ভাজা কড়াইয়ের মতো
হে সূর্য, বহু অন্ধকার চোখের জন্য 
তোমার প্রতিনিধি করো
মানুষ যদি আলো হতে বঞ্চিত হয়
তবে তোমার মহিমা কোথায়?
হেঁটে হেঁটে এতো দূর এসেও আরো দূর খুঁজি
কাছে না থাকার দুঃখ জন্মেনি এতোটা দূরত্বের মাঝে
প্রাণের চেয়ে শিল্পের সৌন্দর্য বেশি নয়-প্রকৃতির যশ
অবলীলায় মহাকাশ ছুঁয়ে গেলেও
কারো দাবি নেই ছুঁয়েছে হৃদয়ের অন্ত
হে আকাশ, তোমার বিশালতার সঙ্গী করো

পীড়িত হাড়ের অন্য আকাশ; বাতাসে ছড়ানো আত্মদহন।

কবিতা >> ভূতো কিংবা হৃত তৃষ্ণা : জিল্লুর রাহমান জয়

ভূতো কিংবা হৃত তৃষ্ণা

জিল্লুর রাহমান জয়

কানামাছি ভোঁ ভোঁ আর সাপলুডু ভূতুড়েরা
তখুনি সরেছে বটে, অথচ সারেনি মোটে 
বউ বউ খেলার খায়েশ
উদাস দুপুর বেলা ঝরোঝরো বৃষ্টিতে
তখনও চাপতো ঘাড়ে যক্ষের ভূত এসে
হিমালয় কৈলাসগিরি ঘুরিনি-ফিরিনি আমি
অথচ ঘুরে ও ফিরে সেই তো খেলি কানামাছি, বউচি।

তারা দূরে নিয়ে গেছে কেউ, কেউ কেউ হাত ধরে-টরে
দেখিয়েছে পথ, অথবা আমিও কাউকে বা...
কারো কারো আঁচলের গিঁটে আমারই গিয়েছে এঁটে
এতগুলো অবসর অবসন্ন দুপুর
গোঁ ধরা গোঁয়ার্তুমিতে কখন কী করেছি না-কি
ওসবে আজও মনে খিল ধরে হাসি পায়, 
কখনও জানলা ধরে বালিশে মুখটি গুঁজে
বিস্তর জলধারা গড়িয়েছি একাধারে;
কারো কারো জন্য তো এইমত দিত মনোনাড়া

ওইসব পুরনো দিন আজকাল দ্বারে এসে ঘুরপাক খায়,
তবু দরজা দেখেনি ঠুকে- 'ওখানে কে আছে গো,
কে আছ ভিতরে?' ডেকে গেলে অন্তত একবার
ঢেকে তো দেব না কোনও ঐন্দ্রজালিকে! 
এই একটু পলকে দেখে তৃপ্তির সুখে ভেসে 
আয়ুষ্মান হই আরও বড়জোর দুটো দিন
এ নেশা ঘুচালে তবে নিশ্চিত ছেড়ে যাবে বুকে ব্যথা চিনচিন

বউ বউ ক্রীড়নক; ভূতো কিংবা হৃত তৃষ্ণা।

কবিতা >> শূন্যতা : হামিদা রহমান

শূন্যতা

হামিদা রহমান

আমাকে টেনে রাখছে শূন্যতা। অবিকল দু’হাত ধরে, আমার সমস্ত সত্তায় যখন ভর করে; সে বিশ্বস্ত হাতে আরও চেপে ধরে, গ্রাস করে সমস্ত কিছু। আহার, নিদ্রা নাই। সে আমার কানে ফিসফিস করে বলে- আপন কথা।
ট্যাপের জলে সেও ঝলঝল করে, জলরঙ মাখি। রাতের রঙ ফিকে হয়ে আসে। সূক্ষ্ম তারতম্যের স্তরে-স্তরে প্র্রলোভিত করে। আকাশের নীল রঙ লীন হয়ে আসে। মোহ জটিলতা ঘুরপাক খায়।

লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র

কবিতা >> ইতিহাসগত পার্থক্য : ফয়সল অভি

ইতিহাসগত পার্থক্য

ফয়সল অভি

আমার জন্মের দু’মাস আগে মা নানার বাড়ি গিয়েছিল, তার মায়ের আলিঙ্গনে একজন গর্ভবতী প্রসব করলো আজান। আজান মানে আহ্বান, দলে দলে লোক আসলো।
হাতে হাতে জমলো মাটি. গড়ে তোলা হলো স্নেহ। আর ফলবতী ফসল কাটা হলো উৎসবে। সে সময় আনন্দের সংবাদ ছড়াতো সবার কানে কানে এবং মুখে মুখে হাসি আর পানের গন্ধে হতো নাতির মুখ দেখা। আমি বুঝেছি আরো পরে; তখন কোনো আশ্রম ছিল না সবাই লাঙ্গলের আর্দশে বেশ মানবিক।

ঠিক তার সাতাশ বছর পর...। শহরের সবচেয়ে উঁচু স্পিড ব্রেকার সামনে তার চেয়ে আরো আধুনিক সাদা বেডে জন্ম হলো আমার রক্তে প্রথম সূত্রপাত..... আমি হলাম বাবা। কী আশ্চর্য! সর্বোচ্চ স্বরের আজানটা এখানে আহবান হলো না। আগত সময়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে ব্যাংকে খোলা হলো একটা একাউন্ট, সাথে আশ্রম থেকে আনা হলো বৃদ্ধ মাকে। কারণ এ সময়ে শিশুটির মা ও বাবা দুজনই কর্মজীবী। কর্মের দায় বয়ে বেড়াতে হবে অগোছালো মাটিকে। কিন্তু কেউ জানে না সেই মাটির বুকে কোনো এক প্রৌঢ় বৃদ্ধা আঙুলের স্রোতে নিয়তই রোপণ করে যায় অতীত। বড় হতে হতে নতুন হয় প্রাপ্তবয়স্ক জেনে যায় নগরের সকল ধারা। একসময় পরিণত নাগরিক আর দিন শেষে অনুভূতির বিষাদগ্রস্ত ভোর। তাই সে কলমের কালি গিলে গিলে জ্ঞানী হয়েছিল তারপর জ্ঞান বিক্রি করে বেঁচে থাকে আর শহরে শহরে নতুন নতুন আশ্রম উদ্বোধন হয়। সাদা মনের মানুষের তালিকা ক্রমশঃ আরো বড় হয়।

অবশেষে আমি আশ্রম থেকে লিখছি, শেষ হতে হতে একদিন সব নিঃশেষ হয়ে যাবে অতঃপর আদম ও হাওয়া থেকে আবার নতুন ইতিহাস। হয়ত এটার নাম ঈশ্বরচক্র যা বরাবরই অখণ্ড।

কবিতা >> সীসা : প্রণব আচার্য্য

সীসা

প্রণব আচার্য্য

আমরা পেয়ে গেছি হরিণের খুর- মড়ক লাগা
মাছিদের গুঞ্জন; ঢাকার আকাশে
আজ অনেক ধোঁয়া, দু’জনে মিলে হয়ে আছি
পালকের নরোম শ্বাস। গাছেদের পাতা থেকে
মুছে গ্যাছে সেই কবে বসন্তের দাগ-
অজস্র বেগুনী আলো আর ট্রাফিক হলুদ রিরংসায়
না, এটা প্রাচীন নাটকের একরৈখিক বিন্যাস নয়
এ শহরের সবকটি ইটে লেগে আছে কসমোপলিটন ধূলো
ভুলে গ্যাছো; ভুলে গ্যাছো এই শহরে ধূলো উড়িয়ে
বেজেছিলো ঘন অশ্বখুরধ্বনি- আমরা এসেছি
সেদিনই তো- সীসার মতো ধীরে ধীরে গলে যাচ্ছে রোদ