শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

কবিতা >> পরিবির্তত পৃথিবীর পরে : সুমন আখন্দ

পরিবির্তত পৃথিবীর পরে

সুমন আখন্দ

একটি করাত
কেঁপে উঠলো সারি সারি গাছ
একখানা জাল
পালিয়ে গেল শত শত মাছ
শাবল দেখে ভয় পেয়েছে একটি পাহাড়
কোদালের কথা শুনে কাঁদছে মাটি
পথের পাগল ভাবে, 
এখানে আর কেমনে হাঁটি! 
ঠিক তখনই দূর্ঘটনা
বাস রিকশা চায়ের দোকান
সব জায়গায় একই আলাপ
পৃথিবীর পেটে ছুরি মেরে
পালিয়েছে বিশ্রী গোলাপ!
অথচ এতদিন ফুলটি ছিলো প্রেমের প্রতীক 
‘চেঞ্জ উই নিড’ বা ‘পরিবর্তনের সনদ’ যাই বলি না কেনো
কেনো আবার খুনোখুনি বাড়লো?
প্রেমিকা কেনো প্রেমিককে মারলো?
প্রশ্ন অনেক- উত্তর নেই
করাত, জাল, শাবল, কোদাল বাড়ছেই

মনে হয় মশার মতো আরো বাড়বেই!

কবিতা >> ধন্যবাদ ফেইসবুক : তুহিন চৌধুরী

ধন্যবাদ ফেইসবুক

তুহিন চৌধুরী

কাছের মানুষদের নিয়ে স্মৃতিগুলো
এখনো চোখের সামনে ভাসে
আজও সেই মানুষগুলোর সাথে
যোগাযোগ হয় নিয়মিত
মুঠোফোন আর ফেইসবুকে জেনে নিই
একে অন্যের খবর
যেমনটি জেনে নিতাম অনেক আগেও
পাড়ি দিতে হতো অনেকটা পথ
নষ্ট হত অনেক সময়
তারপর হাতে হাত রেখে 
দলাদলি আর গলাগলি করে
আরও কিছুটা সময় নষ্ট করতাম
এখন আর সময় নষ্ট হয় না
তবু মিলে যায় সব খবর
শুধু পরশগুলোই মিলে না
মাঝে মাঝে এই মানুষদের
ছবির মতোই মৃত লাগে
ধন্যবাদ ফেইসবুক 

মৃত ভালোবাসা উপহার দেওয়ার জন্য।

কবিতা >> মাঠে : জ্যোতি আহমদ

মাঠে

জ্যোতি আহমদ

অনেক দূরে আছো, আমি দেখতে পাই।

ভাবতে ভালো লাগে তুমি আছো বিভোর সুস্থির
পরম এক আকাশ অতি পুরাতন,
কিছু লোকের পায়ের ধুলোর মধ্যে পবিত্র সত্য এক
লিপিকা-আমি, আর কেউ কেউ টের পাই। 

খুশি আপা বিকেলে শুয়ে থাকেন, জানালার পাশে
কোেনা মেঘ-চিহ্ন নাই, আশেপাশে সমুদ্র নাই
চিরুনি জড়িয়ে অসংখ্য ছেঁড়া চুল, তার
তীব্র প্রতীক্ষার শরীর কতবার ঘুরে এসে থেমে আছে
শাড়ির আঁচল-কুঁচকে যাওয়া, মনে হয়
আমাদের ছোট নদী তীরে নৌকোর মতো ভেসে ভেসে
এসে দাঁড়ালো কোন নগণ্য গ্রাম-কুঁচকে যাওয়া।
কাউকে কিছু না বলে অনেকটা মৃত তিনি,
বিরক্ত এক নারীর লাশ তখন খুশি আপা। 

ধরলার উপর ব্রিজ দেখা যায়,
সন্ধ্যায় তরুণ-তরুণীদল উঠে পড়ে ব্রিজের উপর
রেলিং ধরে ধরে সৌরভ আলো ছড়ালো কেউ, মুঠোফোনে 
ঝনঝন করে বেজে ওঠে জুবেনের গান। নিচে,
বালুর তলে অসংলগ্ন শুয়ে থাকে মরা ধরলা নদী।
সামান্য পানি, বালকের হ্যাঙ্গা জালে 
একটা মাছ নাই, কাঁকড়া নাই। 
অত দূরে নয় বলে এক সামান্য আলোর শহর থেকে
সেই সন্ধ্যায় একদল বিষাদগ্রস্ত লোক
বাড়ি ফিরে আসে,
কাদা-করা জমিতে ধানবীজ ছিটাবে আগামী কাল। 
আশা ছিলো, প্রস্তুতি লগ্নভ্রষ্ট হলো এখন।

খুশি আপার বাড়ির পাশ দিয়ে পথ ঘুরে যায়। 
অনেক পালতোলা বাড়ি- গোছানো, সজীব
কারো উদ্যান জুড়ে ছড়ানো বিভিন্ন পাতাবাহার
অলৌকিক নীল, হলুদ ও লাল এদের ঘ্রাণ
আমাকেও টানে-অন্য কেউ কেউ বিবস্ত্র হয় প্রায় রাতে
আর আমার মধ্যবিত্ত যৌন বাসনা অসাড় পড়ে থাকে
হারাবার অমূলক ভয়ে।

শৈশব দেখেছিলো এক ভয়াবহ যুদ্ধ
রক্তের বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে মৃত্যু।
হয়তো ভয় পেয়েছিলাম অথবা ক্রোধের
পরিভাষা মুখস্থ করেছি সেদিন, হতেও পারে
এক বিমূর্ত প্রতিজ্ঞা ছুঁয়েছিলো, মাকে-হঠাৎ
খামচে ধরে বলেছি কিছু।

এতো বছর পরে আব্বার ধুলোময় সব বই, মাকে লেখা
পত্রাবলী, বিবর্ণ ফটোগ্রাফ থেকে কিছুতেই 
সরে যেতে পারি না রাতের ঘুমের ভিতর।

আকাশের নিচে অমর এক কাচঘরে
বিকেলে শুয়ে থাকেন খুশি আপা বিরক্ত এক লাশ হয়ে।
শুয়ে আছে মাউথ অরগান।
মেঘ দেখা জানালায় আজও কোনো মেঘ লাগে নাই
প্রবল তাপ নিয়ে শুকনো, সরু নদীর ভেতরে
সূর্য ডুবে যায় আর সন্ধ্যায় তীব্র... অসহ্য চাঁদের আলো।

বৃষ্টির সম্ভাবনা নাই জেনে সেই রাত্রিবেলায়,
সেই চাঁদের আলোয় অনতিদূরে পড়ে থাকা এক মাঠে
জড়ো হলো লগ্নভ্রষ্ট সেই কিছু লোক। বিকল্পের খোঁজে
তীব্র অনুসন্ধান হলো, আর তাদের 
সরল কথোপকথন রাত-ভোর ভেসে থাকে।

অনেক দূরে আছো, আমি দেখতে পাই। 

ভাবতে ভালো লাগে তুমি আছো বিভোর সুস্থির
পরম এক আকাশ অতি পুরাতন, 
কিছু লোকের পায়ের ধুলোর মধ্যে পবিত্র সত্য এক

লিপিকা-আমি আর কেউ কেউ টের পাই।

কবিতা >> আমার বেদুঈন মন : সাবিত্রী গাইন নীলিমা

আমার বেদুঈন মন

সাবিত্রী গাইন নীলিমা

অন্ধগলি পথে ছুটে চলা যৌবন খুঁজে ফেরে মায়ার রোদ্দুর নিরাশার চরে খেলে যায় বিবাগী বাতাস - লুকোচুরি স্রোতে ভেসে যায় আশার বসতি ক্লান্ত অতীত সুখ - সোনালী শৈশব কৈশোর বাঁধাহীন প্রান্তরে ছুটে চলা আনমনে কথা বলা অফুরন্ত নির্ভেজাল ভালোবাসা - গায়ে লাগে ভালোলাগার পাগলা হাওয়া।

স্যাঁতস্যাঁতে ধোকাময় পথে অনন্ত হেঁটে চলা আমি আর আমার বেদুঈন মন,
স্বপ্ন সাজানো বিশ্বাসমহল খসে যায় অকস্মাৎ পড়ে থাকে আঁটকুড়ে যৌবন।

কবিতা >> মিথ্যেবাদী : সৈয়দ শিশির

মিথ্যেবাদী

সৈয়দ শিশির

ধর্মগ্রন্থ হাতে নিয়ে বলেছিলে-
তুমি আমার প্রথম পুরুষ
আমি বুকভরা বিশ্বাস নিয়ে তোমার ললাটে
ঠোঁট ছোঁয়াতেই উচ্চারণ করলে-
এমনটি আমার খুবই পছন্দের!

আমার চোখ তখন স্থির হয়েছিলো

ধর্মগ্রন্থ আর ঈশ্বরের চোখে।

কবিতা >> ঈশ্বরতত্ত্ব : সুস্মিতা পাল

ঈশ্বরতত্ত্ব

সুস্মিতা পাল

ক্ষয়ের হিসেব রাখতেই
আসতে হয়েছে ঘুণপোকাদের-
গর্ভের দিকে নেমে যাওয়া সিঁড়ির 
প্রথম পত্তন এঁকে 
ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত মানবের
ঈশ্বর পদ পেয়েছে তারা!
আদিম আরশোলা-জন্ম খোদাই হচ্ছে
সেই উল্লাসে!

হ্যানয়, ভিয়েতনাম

কবিতা >> কবি ও কমরেড : জাবেদ ভূঁইয়া

কবি ও কমরেড

জাবেদ ভূঁইয়া

এক বিপ্লবী দেখুন, সে রাষ্ট্রদ্রোহী
সরকারের সমালোচনা, রাষ্ট্র-দ্রোহের সমান।
ব্যর্থ অনুসন্ধান করে তাকে খুঁজে পাবে না
সে বৃক্ষের আড়ালে যায়নি -
মিছিলে খোঁজো, দেখো পেতে পারো লিকলিকে শরীর
লুকানোর জন্য কোনো গুহা খনন করেনি সে
খুঁজেনি পর্বত-পাহাড়
শুধু রাজপথে দাঁড়িয়ে থেকে 
মুখোশের নগ্ন দৃশ্য দেখে 
প্রকাশ্য থু-থু বাতাসের গায়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছে।
শহরের কুলাঙ্গার যারা, তারা জানেন -
সে কতটা বেয়াদব। গোলামিতে পোষে না তার,
তাই রহমতের রাত-বিরাতে বঞ্চিত পথিক,
ভীষণ যোদ্ধা, যদিও নিঃস্ব সে, তবুও সাহসী,
তোমাদের মতে হতে পারে বে-দ্বীন, নাফরমান

সে বিপ্লবী কবি ও কমরেড।