শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

কবিতা >> খামার : মুরাদুল ইসলাম

খামার

মুরাদুল ইসলাম 

রৌদ্রতে আজ কেউ এলো না
আমার দিন কেটে যায় ত্রিকাল তপস্যায়
মদ্যশালায় সাধনা আমার শুদ্ধ ঋষির
হাওয়ার মাঝে লাঙল চালাই
অর্জিত জ্ঞান বিদ্যা আছে সুস্থ কৃষির
সাধক আমি, খাদক আমি
করুণ কাঠের সুন্দরীদের মাদক আমি, যাচ্ছেতাই
আঙুলজুড়ে নেশাগ্রস্ত পাঁচটি জাহাজ
চোখের মাঝে খোল নলচে বদলে দেওয়ার বিষণ্ন কাজ
নিঃশেষিত ইন্দ্রিয় ঘ্রাণশক্তি আমার
নশ্বরতায় নিপতিত কোষ অসংখ্য, মানব খামার।

কবিতা >> এই কবিতা বেহুলার জন্য : আবদুল্লাহ শওকত

এই কবিতা বেহুলার জন্য

আবদুল্লাহ শওকত

আমিও এক ভরা পূর্ণিমায় গৃহত্যগ করেছিলাম
সম্মুখ দরজা খোলা রেখে
গৃহে ছিলো মূল্যবান রতœরাজি
শয্যায় রূপবতী প্রিয়তমা...
লোভী তস্করের দল তখনো অপেক্ষায় ছিলো
কিছু দূর যাওয়ার পর শুনেছিলাম
দ্বাররক্ষীর মরণ চিৎকার
আমার প্রিয়তমার ভয়ার্ত স্বর...
না, আমি ফিরে যাইনি। 

তখন রাত্রি দ্বিপ্রহর-
আমি ক্রমশ শহরের দিকে যাচ্ছিলাম
বহুমূল্য কটিদেশের অলঙ্কার-
ছুঁড়ে দিয়েছিলাম ক্ষুধার্ত গণিকাকে
না, আমি দাতা নই।
সেই গণিকার চোখেই দেখেছিলাম 
অবারিত প্রশান্তির প্রহেলিকা। 

শহর পেরিয়ে এলাম বিস্তৃত প্রান্তরে
ঘুমিয়ে পড়েছিলাম ঘাসের চাদরে
সেখানে আমাকে কেটেছিলো বিষধর সর্প
আমি কি তবে লখিন্দর...?
না, আমার বেহুলা এখন তস্করের 
লোভী বাহুডোরে আবদ্ধ। 

কবিতা >> ভালো লাগা কিছু কথা : মেসবাহ উল হাসান গালিব

ভালো লাগা কিছু কথা 

মেসবাহ উল হাসান গালিব

সেই ভালোবাসাটা বোধহয় ভালো ছিল-
যখন ভালোবাসতাম বাড়ির উঠোনটা, 
সকালের সূর্য, 
জাম গাছের হলদে পাখি,
ভালবাসতাম পুকুরে দাপাদাপি করতে, 
পাখির বাসায় হানা দিতে, 
কাচা পাকা আম কুড়াতে, 
সারাদিন বড়শি হাতে মাছ ধরতে।
এগুলো এখনও ভালোবাসি।

কিন্তু তারপরেও অঞ্জনের গানের মতো
‘তারপর কখন হঠাৎ সুখের মানে পাল্টে যায়’
এখন ভাল লাগে ক্লান্ত দুপুরে লম্বা ঘুম দিতে, 
রাতের আঁধারে একাকী হেঁটে যেতে, 
বিধ্বস্ত কাকের মত নিমগ্ন চিন্তা করতে,
হিট কোনো মুভির মধ্যে বুঁদ হয়ে থাকতে, 
কোনো রোমাঞ্চ বই পড়ে শিহরিত হতে,
আর ভালোলাগে অচেনা আলোয় থাকা সেই অপ্সরীকে, 
যার চোখের মাঝে আছে অতল সুমুদ্র,
কথায় তার সজীবতার পরশ,
যাকে দেখা হয়নি কখনও,
যাকে ভালোবাসি পুরনো থেকে নতুনে
আদি থেকে অনন্তে।

কবিতা >> প্রতীক্ষা : দুর্জয় আহমেদ

প্রতীক্ষা

দুর্জয় আহমেদ

রাত বাড়ছে রাতের মতোই করে
খুঁজে পাওয়া অন্ধকার সীমাহীন
বিরহী যক্ষ মেঘের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে রাত্রি নিশীদিন।
উইয়ে ধরা বাস্তুভিটা আমার
ঝরতি পলেস্তারা দেয়ালের 
অহর্নিশি গুনছি সময় খেয়াল আর বেখেয়ালে।
‘প্রথম প্রেম দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’
চামড়ার নিচে বয়ে চলা খসখসে সময়
পিচঢালা রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে দেখি
অস্ফুট এক চিৎকার জাগে।
বহতা নদীর বুকে খড়কুটো 
পাল্টে যাওয়া জীবন বহমান
পা-ুলিপির প্রতিটি খেরোপাতা
লোনা জলে করছে অবগাহন।

কবিতা >> অস্তিত্বের প্রশ্নে দ্বিধাগ্রস্ত : দুর্জয় আহমেদ

অস্তিত্বের প্রশ্নে দ্বিধাগ্রস্ত

রাজু রণরাজ

পাপের পাহাড় হয়ে পৃথিবী
ছেড়ে যেতে যেতে পাপী,
সামনে দাঁড়ানো যমদূতকে বলি
দুর হ’ ভ্রান্তি কল্পনা
বিশ্বাস করি না তোকে,
বিশ্বাস করি না ঈশ্বর।
স্তম্ভিত যমদূত কাঁপে,
যথাসম্ভব দুই হাত ঢুকিয়ে দেই তার কলিজায়
ছিনিয়ে আনি অবিশ্বাসের প্রাণ।
তখন মনের অবচেতন কোণে
মৃত্যু হয় দুটি অস্তিত্বের,
ঈশ্বর ও ঐশ্বরিক ক্ষমতার।

কবিতা >> দাঁতফুল হাসি : মীম হুসাইন

দাঁতফুল হাসি

মীম হুসাইন

কথার ফাঁকে বলছি কথা, 
একটি কথা ভুল
হা হা করে হাসলে তুমি 
উড়লো তোমার চুল।

কথার ফাঁকে বলছি কথা
একটি কথা ভুল
হা হা করে হাসলে তুমি 
গালে হাসির টোল।

কথার ফাঁকে বলছি কথা
একটি কথা ভুল
হা হা করে হাসলে তুমি
ভিজলো ঠোঁটের কূল।

কথার ফাঁকে বলছি কথা
একটি কথা ভুল
হা হা করে হাসলে তুমি 
দাঁত বাবুনার ফুল।

কথার ফাঁকে বলছি কথা
একটি কথা ভুল
হা হা করে পার হলে কি
পুলসিরাতের পুল?

কবিতা >> কষ্টের শ্লেটে প্রেমের অভিষেক : মেহেদী হাসান মিঠু

কষ্টের শ্লেটে প্রেমের অভিষেক

মেহেদী হাসান মিঠু

দেখেছো কি..
মুছে যাওয়া আশ্রিত বৃষ্টির
আর্দ্র দৃষ্টিতে
হৃদয়গোধূলির ম্লানময়তায়
প্রজাপতির বিশুষ্ক ডানায় রঙধনু ছায়া..
নীল চাদরে
কষ্টের শ্লেট ভেঙে দৌড়ে পালানো
ভালোবাসা?

হয়তোবা দেখোনি
অস্তিত্বহীনতায় 
প্রেমের অভিষেক
বৃথা আস্ফালনে 
বসন্ত হাসি..
মেঘপুঞ্জের লাল সবুজে
ধুলোজমা মৃত্তিকার বিবর্ণ মানচিত্র।